
নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরায় ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে ব্যবসায়ী, ভিআইপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজির এক ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে তালা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের মো. আল আমিন সরদার (২৮)। পঞ্চম শ্রেণি পাস এই যুবকের মূল অস্ত্র গভীর রাতে ফোন করে টাকা দাবি করা। চাঁদা না দিলে মুহূর্তের মধ্যে ভুয়া ফেসবুক পেজে সম্মানহানিকর ও আপত্তিকর মিথ্যা তথ্য পোস্ট করে সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মাদক, নারী কেলেঙ্কারী ও চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আল আমিনের প্রতারণার কৌশল বেশ অদ্ভুত ও ভয়ঙ্কর। সে গভীর রাতে সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন দেয়। শুরুতে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলেও এক পর্যায়ে তা কমতে কমতে এক হাজার, এমনকি সর্বশেষ মাত্র দুইশত টাকা পর্যন্ত নেমে আসে। কিন্তু এই সামান্য টাকা দিতেও কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে বা তার কথায় রাজি না হলে, ওই রাতেই শুরু হয় তার ‘ডিজিটাল সন্ত্রাস’। নিজের তৈরি করা বিভিন্ন ভুঁইফোড় ও ভুয়া ফেসবুক পেজে টার্গেট করা ব্যক্তির নামে সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প লিখে পোস্ট করে দেয় আল আমিন।
সম্প্রতি এই চক্রের শিকার হয়েছেন সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাবেক যুবদল নেতা ও বর্তমান চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু। তাঁর নামেও ভুয়া পেজে মিথ্যা গল্প ছড়ানো হয়েছে।এই বিষয়ে ভুক্তভোগী নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন,এই আল-আমিন নামের ব্যক্তি কোথা থেকে আমার নম্বর সংগ্রহ করে রাত ২টার দিকে আমাকে ফোন দেয়। নিজেকে ‘দৈনিক সোনার বাংলা’ ফেসবুক পেজের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সরাসরি টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমার নামে ফেসবুকে নোংরা পোস্ট দেওয়ার হুমকি দেয় এবং পরবর্তীতে তা-ই করে।এছাড়া সাতক্ষীরার স্বনামধন্য চিকিৎসকের ছেলে আপডেট সাতক্ষীরার সম্পাদক জিমি র নামে ও সে কুরুচি পূর্ণ স্টাটাস লিখে তার নিজস্ব আইডি ও সোনার বাংলা পত্রিকায় পোষ্ট করেছে।বিষয়ে আপডেট সাতক্ষীরার সম্পাদক জিমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।স্থানীয় নাগরিক নেতা ইদ্রিস আলী এই প্রতারকের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"আল-আমিন সরদার একজন চিহ্নিত মাদকাসক্ত। এলাকায় তার অপরাধের খতিয়ান দীর্ঘ এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক ও সম্পাদক পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। অনলাইন জুয়া (গ্যাম্বলিং) থেকে শুরু করে ভয়ঙ্কর সব মাদকের নেশায় বুঁদ হয়েথাকে সে। আর এই নেশার টাকা জোগাড় করতেই সে বেছে নিয়েছে এই ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পথ।
এই 'ডিজিটাল সন্ত্রাসী' ও চাঁদাবাজের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরার ব্যবসায়ী সমাজ ও সচেতন নাগরিক মহল প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।