খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনোভাবেই ভোটকেন্দ্র দখলের সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রকাশ্যে কেউ ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে থাকবে না, বরং কঠোরভাবে তা প্রতিহত করা হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নড়াইল জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি বলেন, কেউ গোপনে বিকাশ বা অনলাইনে লেনদেন করলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তবে প্রকাশ্যে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে আমরা চুপ করে থাকব না। যারা এমন চিন্তা করছেন, তারা ভুলে যান।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত নড়াইলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আশঙ্কাজনক কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে এ জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের বসবাস থাকায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতার আশঙ্কা থাকে।
অতীতে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এবার এসব প্রতিরোধে সাংবাদিক, সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ডিআইজি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন ইউনিট থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হলে তার জন্য আগাম দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সময়ে মহাসড়কে চলাচল ও ব্যাংকিং লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগেভাগেই প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলার দুইটি সংসদীয় আসনের ২৫৮টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর তিনটি ক্যাম্পের ৫০০ সদস্য, র্যাবের ২ প্লাটুন, বিজিবির ৩ প্লাটুন, পুলিশের ৮৯৬ জন এবং আনসারের ৩ হাজার ৩৫৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও ৬ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন।
মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী, মো. রকিবুল হাসানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।