![]()
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে সাতক্ষীরার ৬০৯টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। এ সময় তিনি পূজা উদযাপন পরিষদ ও মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার বলেন, সাতক্ষীরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলেমিশে বসবাস করেন এবং ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজনে একে অপরের পাশে থাকেন। দুর্গাপূজাও সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে। পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অধিকাংশ পূজামণ্ডপে ইতিমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাকি মণ্ডপগুলোও দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনের শুরুতে পুলিশ সুপার বুধহাটা সুবর্ণ বণিকপাড়া পূজামণ্ডপ ও বুধহাটা কাছারিবাড়ি সার্বজনীন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মণ্ডপের ভেতরে গিয়ে প্রতিমা দর্শন করেন এবং পূজা উদযাপনের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন। পূজার দিনগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান।
পরে তিনি মহেশ্বরকাটি, হাড়ীভাঙ্গা, বুড়িয়া ও গোয়ালডাঙ্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মিঠুন কুমার সরকার, দেবহাটা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. বায়েজীদ ইসলাম, আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুর রহমান, বুধহাটা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সেকেন্দার আলীসহ পুলিশ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।#