
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচন এখনো অনেক দূরের বিষয়। তপশিল ঘোষণা হয়নি, রাজনৈতিক দলগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে মাঠের আলোচনা, রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম নাসিম ফারুক খান মিঠু।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি যদি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নাসিম ফারুক খান মিঠুকে দলীয় মনোনয়ন দেয়, তাহলে তিনি মেয়র পদে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হয়ে উঠতে পারেন। অনেকের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও নির্দলীয় ভোটের একটি বড় অংশ তার পক্ষে একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত দুটি পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন নাসিম ফারুক খান মিঠু। উভয়বারই অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। সে সময় বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী ছিলেন তাসকিন আহমেদ চিশতি। ফলে বিরোধী রাজনৈতিক ভোট বিভক্ত থাকলেও জোটগত সুবিধা পেয়েছিলেন চিশতি।
তবে এবার রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে আলাদা অবস্থানে রয়েছে। ফলে পৌরসভা নির্বাচনেও জামায়াত পৃথক প্রার্থী গোষণা করেছে।
এ অবস্থায় বিএনপির ভোট ব্যাংক একদিকে এবং জামায়াতের ভোট অন্যদিকে ভাগ হলে বিএনপির জন্য গ্রহণযোগ্য ও সর্বস্তরের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় প্রার্থী প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। সেই জায়গায় নাসিম ফারুক খান মিঠুর নাম সামনে চলে আসছে।
বর্তমানে সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাসিম ফারুক খান মিঠু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবসায়ী সমাজের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীরা জানান, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হিসেবে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন বলে বিএনপির একটি অংশ মনে করে। এ কারণে দলের ভেতরেও নাসিম ফারুক খান মিঠু কে প্রার্থী করার দাবি ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে।
ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন সফল সংগঠক ও ব্যবসায়ী হিসেবে মিঠু শহরে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে বা দুর্বল অবস্থানে থাকলে তাদের একটি অংশের ভোট খান মিঠুর দিকে যেতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, খান মিঠু তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, মানবিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এজন্য দলীয় পরিচয়ের বাইরে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেও তার অবস্থান রয়েছে।
অপরদিকে, সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে নাসিম ফারুক খান মিঠু পরিচিত একটি মুখ। করোনাকালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি এখনও অনেকের মুখে মুখে শোনা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে সহায়তা করেছিলেন। এছাড়া চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে মাসব্যাপী খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিও পরিচালনা করেন। এ ছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
সাতক্ষীরা পৌরসভায় বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক এবং পৌর রাজনীতিতে পরিচিত মুখ হওয়ায় তিনি এখনও বিএনপির একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।
অন্যদিকে জাতীয় নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিজয়ের পর দলটি পৌরসভা নির্বাচনেও আত্মবিশ্বাসী। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জামায়াত নেতা মো. ওমর ফারুক। ফলে পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী বা বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেছেন, তিনি প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তার ভাষায়, আমি মুখের কথায় নয়, কাজে করে দেখাতে চাই। আমি যেহেতু শরহরের ছেলে দুবার র্নিবাচন করেছি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয়েও পৌরবাসী অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমি সাতক্ষীরার সন্তান, মানুষের সঙ্গে থেকে তাদের জন্য কাজ করতে চাই। তবে নিবাচনের ব্যপারে সিদ্ধান্ত দলের।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন বড় বিষয় নয়। যতদিন সুযোগ পাই মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় অর্জন আমার কাছে আর কিছু নেই।
সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সাবেক মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতি, জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ওমর ফারুক এবং ব্যবসায়ী নেতা নাসিম ফারুক খান মিঠুকে ঘিরে আলোচনা এখন তুঙ্গে।
তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত নাসিম ফারুক খান মিঠুকে দলীয় মনোনয়ন দেয় এবং তিনি দলীয় ভোটের পাশাপাশি নির্দলীয় ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশের ভোট আকর্ষণ করতে পারেন, তাহলে সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র পদে তিনি অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীই নন, সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী হিসেবেও আবির্ভূত হতে পারেন।
