বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২বছর যাবৎ ধর্ষণের শিকার এক অনার্স পড়ুয়া ছাত্রী : দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চান ভুক্তিভোগী তরুণী

দ্বারা zime
০ মন্তব্য 80 দর্শন

সাতক্ষীরা শহরের কামাননগর মধ্য পাড়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মেয়ে কে ২ বছর যাবৎ ধর্ষণ করে যাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ ,মেয়েটি তার বান্ধবী আখি মনির বাড়ি প্রাইভেট পড়তে যেতো ২ বছর আগে। প্রাইভেট পড়ার সময় বান্ধবীর ভাই আরাফাত তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।কিন্তু সে বিবাহিত বিধায় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।এক পর্যায়ে ছলেবলে কলাকৌশলে মেয়েটি কে বস করতে সক্ষম হয় লম্পট আরাফাত।পরে আরাফাতের মিথ্যা প্রেমের জালে হাবুডুবু খেতে থাকে ভুক্তভোগী নারী। এক পর্যায়ে আরাফাত তার স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বল্লে সে তার পুর্বের স্বামী মেহেদী হাসান কে ভিডোর্স দিয়ে দেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান ২০-২২দিন আগে আরাফাতে র পরিবার তাদের সম্পর্কের কথা যেনে ফেলায় আরাফাত ভুক্তভোগী নারীকে বলেন তোকে আর বিয়ে করবোনা।আমার পরিবার তোকে মেনে দেবেনা।এমতাবস্থায় প্রতারক ও লম্পট আরাফাতের প্রেম প্রতারণার ফাঁদে পড়ে মেয়েটির স্বামী ও প্রমিক দুই কুল ই হারিয়ে গেলো ভুক্তভোগী নারীর।

ভুক্তভোগী নারীর মা শাহানারা জানান,আমি আমার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য আরাফাতদের বাড়ি গিয়েছি যেনো তারা আমার মেয়েকে পুত্র বধু হিসাবে গ্রহণ করে।কিন্তু আরাফাতের মা ও আরাফাতের বাবা আজিজ তাদের কে দুর দুর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন এবং বলেন থানা পুলিশ যেখানেই যাও, তোমাকে কখনো বৌ হিসাবে গ্রহণ করবোনা।প্রয়োজনে জেল হাজত খাটা লাগলে খাটবো।
ভুক্তিভোগীর মা শাহানারা প্রতিবেদক কে জানান,আমার মেয়ে বিচার না পেয়ে ২ দিন আগে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করতে গিছিল।আমি দেখে ফেলায় সে আত্মহত্যা করতে পারেনি।পরে আমার মেয়ে বড় বাজার থেকে কিটনাশক গ্যাস ট্যাবলেট কিনে বাড়ি এনে রেখেছে। বিচার না পেলে সে আত্মহত্যা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শাহানারা জানান, আমি গরীব মানুষ। লোকের বাড়িতে কাজ করে আমার একমাত্র মেয়েকে বিএ অনার্স পর্যন্ত পড়িয়েছি।আমার মেয়ে এখনো সাতক্ষীরা সরকারী মহিলা কলেজে অধ্যায়ন রত।

তিনি জানান,গত ১ লা জুন সাতক্ষীরা সদর থানায় এবিষয়ে অভিযোগ করলে সদর থানার এএসআই ইলিয়াস আমাদের বাড়ি তদন্তে আসে এবং ঘটনার সত্যতা জানতে পারে।তখন এএসআই ইলিয়াস আসামী পক্ষকে থানায় এসে বসাবসি করে সমাধান করতে বলেন কিন্তু আসামী পক্ষ কোন রকম সালিশ/ মীমাংসা না করে পুলিশ কে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখান।গতকাল ৮ জুন ভুক্তিভোগীর পরিবার সাংবাদিকদের বিষয়টি জানালে, সাংবাদিকরা তাকে সদর থানায় এজাহার জমা দিতে বলেন।

আজ ৯ জুন রাতে ভুক্তিভোগী নারী বাদী হয়ে প্রতারক আরাফাতের নামে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি ধর্ষণের এজাহার জমা দেন।এজাহারের সাথে
তাদের সম্পর্কের যাবতীয় রেকর্ড পত্র প্রিন্ট করে জমা দেন বলে জানা গেছে।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহা:মাসুদুর রহমান প্রতিবেক কে জানান,এজাহার পত্র পেয়েছি।বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তিনি জানান,ঘটনার সত্যতা পেলে আসামীর বিরুদ্ধে আইন গত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, যেদেশে রামিসার মত শিশু বাচ্চাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়,সেখানে কাজের লোকের অনার্স পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২ বছর ধরে ধর্ষণ করলেও এখানে ভুক্তিভোগী অনার্স পড়ুয়া মেয়েটি বিচার পাবে কি পাবেনা সেটা নিয়ে হতাশাা গ্রস্থ্য ভুক্তিভোগীর পরিবার।
এবিষয়ে আসামীর পিতা আবদুল আজিজের সাথে কথা হলে তিনি প্রতিবেদক কে জানান,আমরা তাদের কে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ২ লক্ষ টাকা দিতে চেয়ে ছিলাম।কিন্তু তারা টাকা নিতে চান না। তারা স্ত্রীর মর্যাদা চায়।কিন্তু সেটি সম্ভব নয়।এবিষয়ে ভুক্তিভোগী নারী ও তার অসহায় মা ন্যায় বিচারের স্বার্থে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।





০ মন্তব্য

আরও পোস্ট পড়ুন

মতামত দিন