সাতক্ষীরায় অপসংবাদিকের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা হারাচ্ছে মর্যাদা

দ্বারা zime
০ মন্তব্য 10 দর্শন

শেখ আরিফুল ইসলাম আশা :সাতক্ষীরায় অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা ও তথ্যসন্ত্রাসের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে।দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে দখল করে নিয়েছে স্বার্থনির্ভর হলুদ সাংবাদিক, তথ্যসন্ত্রাসীরা। এতে করে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা ম্লান করে দিচ্ছে তারা। এ মহান পেশার আদর্শ উদ্দেশ্য উল্টে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারা নিজ স্বার্থে সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যা কে সত্যে রুপান্তর করছে অবলীলায়। মর্যাদা সম্পন্ন এ ‘পেশা দিনদিন মর্যাদা হারাচ্ছে। দুর্নীতি আর ভন্ডামি ডুকে গেছে এ পেশার রন্ধ্র রন্ধ্র। অশিক্ষিত, কুশিক্ষিতরা অর্থের বিনিময়ে আন্ডারগ্রাউন পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জেলা ব্যাপী।

তাদের ভিতরে পাটকেলঘাটার আল আমিন অন্যতম। সে সোনার বাংলাদেশ নামক পেজ খুলে সাতক্ষীরার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক দের নামে মানহানিকর প্যারাগ্রাফ লিখছে।অথচ সে ৯ টি মামলার পলাতক আসামী। তাকে ৫০০ -১ হাজার টাকা দিলেই সে যার তার নামে তার সোনার বাংলা পত্রিকাতে মানহানিকর কথাবার্তা লেখে।এমনকি পাটকেলঘাটা থানার পুলিশ খুব ভালো করেই চেনেন আল আমিন কে। আামিনের মত অপ সাংবাদিক যারা আছে তারা মানুষকে ভয়ভীতি; আর সরলতার সুযোগ নিয়ে হরদম প্রতরণায় করছে। তারা জেলার সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত, ব্যাবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করে তাদের নামে মিথ্যা সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবেশন করে অর্থ আদায় করে। ব্ল্যাকমেইলিং করে অনেকের কাছ থেকে নিয়মিত কত আদায় করে থাকে তারা। যা সাংবাদিকতা আর সংবাদপত্রের জন্য হুমকি স্বরূপ। তবে সাতক্ষীরায় প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকের সংখ্যাও অনেক। তাঁরা দেশ ও সমাজের কল্যাণে সর্বদা নিবেদিত।

গত একদশকে সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতায় ও তথ্য প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। এই সুযোগে একদিকে বহু প্রতিভাবান তরুণরা এপেশায় সুনাম কুড়াচ্ছেন। অপরদিকে এক দল অশিক্ষিত, মাদকাসক্ত, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী এ’মহান পেশায় এসে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করছে। আর তাদের তৈরিও করছে দেশের আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা। তারা টাকা নিয়ে গলায় ঝুলিয়ে দেয় পরিচয়পত্র। এমনকি প্রতিমাসে মফস্বল থেকে চাঁদাবাজির টাকার ভাগও নেন ওইসব আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার মালিক, সম্পাদকরা। আবার অনেক ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের খরচ বাঁচাতে গিয়ে অযোগ্য কিছু মানুষকে দিয়ে কাজ চালাতে শুরু করেছেন গণমাধ্য মালিকগণ। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেনি অধিকাংশ চাকুরিদাতা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রশিক্ষণবিহীনদের সাংবাদিকতা সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞানবিহীন অদক্ষরা সংবাদ ও সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতার পরোয়া করে না। বাঁদরের গলায় মুক্তোর মালা ঝুলিয়ে দিলে যেমন হয়, তেমনি গলাই আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উন্মত্তের মতো আচরণ করছে তারা।

সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো- বাংলাদেশে সাংবাদিক হতে কোন সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। হুট করেই সাংবাদিক হয়ে যেতে পারে যে কেউ। সু-শিক্ষিত ও মানসম্পন্ন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সাতক্ষীরায় অনেকেই আছেন, যারা তাদের ক্ষুরধার ও বুদ্ধিদীপ্ত লেখনী দ্বারা সমাজের অনেক অসঙ্গতি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলছে প্রতিনিয়ত।

অপ-সাংবাদিক সৃষ্টি এক ধরনের সাংবাদিকতা নির্যাতন। প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা সবসময় চাই এপেশা যেন আগের সৎ ও নির্ভীক চেহারায় ফিরে আসে। সরকারের প্রতি আবেদন থাকবে যারা এসব অপ-সাংবাদিক তৈরি করছে তারা এবং দেশের অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকা চিহ্নিত করে তাদেকে প্রতিহত করবে। গণমাধ্যম স্বাধীন থাকবে তবে অনিয়ন্ত্রিত নয়। এবিষয়ে পেশাদার নির্ভীক সাংবাদিকদেরও সচেতন থেকে অপ-সাংবাদিকতাকে প্রতিহত করতে হবে।





০ মন্তব্য

আরও পোস্ট পড়ুন

মতামত দিন