
আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাল টাকা ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এ লক্ষ্যে পশু হাটের ইজারাদার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকাল ৪টায় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম।
সভায় আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা, যানজট নিরসন, জাল টাকার বিস্তার রোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পুলিশ সুপার বলেন, ঈদকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পশুর হাটে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাটগুলোতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনসহ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, ঈদ ও পশুর হাটকে কেদ্র করে জাল টাকার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন রাখার অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে পশুর হাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, মাস্ক ও স্যালাইনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, হাটে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র (কার্ড) প্রদান করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের শনাক্ত করতে পারেন। এছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে কোনো অবস্থাতেই পশু লোড-আনলোড করা যাবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পশুর হাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত টোল আদায় কিংবা অসাধু কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনসাধারণের ভোগান্তি এড়াতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস এম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মিথুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিনুর চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. রাজীব, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মো. বায়েজীদ ইসলাম, ডিআইও-১, ডিএসবি, জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, পশুর হাটের ইজারাদার ও ব্যাংক কর্মকর্তারা।
