
২০২৬ সালে Police force Exemplary Good Service Badge-(আইজিপি ব্যাজ) এ ভূষিত হলেন সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহা:মাসুদুর রহমান পিপিএম।মঙ্গলবার দুপুরে (পুলিশ সমপ্তাহের তৃতীয় দিনে) বাংলদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল মো: আলী হোসেন ফকির সাতক্ষীরা থানার ওসি মুহা:মাসুদুর রহমান পিপিএম কে Police force Exemplary Good Service Badge প্রদান করেন।
যে সমস্ত কাজের জন্য পুলিশ ফোর্স এক্সেম্প্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ অর্জন করেন–
মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম
বিপিঃ ৮২০৮১২৮৫০৬
পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র)
অফিসার ইনচার্জ, সাতক্ষীরা থানা, সাতক্ষীরা।
সাতক্ষীরা থানার ওসি মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম (বিপি-৮২০৮১২৮৫০৬), পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র), তিনি গত ০৮/১২/২০২৫ খ্রিঃ তারিখে সাতক্ষীরা থানা, সাতক্ষীরায় অফিসার ইনচার্জ পদে যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি আলমডাঙ্গা থানা, চুয়াডাঙ্গায় অফিসার ইনচার্জ পদে কর্মরত ছিলেন।
ইং ০১মার্চ ২০২৫ হইতে ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ পর্যন্ত তার উল্লেখযোগ্য প্রশংসনীয় কাজের তথ্যাদি নিম্নরূপঃ
১। চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস ডাকাতি মামলার রহস্য উদঘাটন, ০৭ জন ডাকাত গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারঃ আলমডাঙ্গা থানাধীন চিৎলা ইউনিয়নের কুলপালা গ্রামস্থ ভাদারিয়া পুল সংলগ্ন চুয়াডাঙ্গা টু মেহেরপুর হাইওয়ে পাঁকা রাস্তার উপর হইতে ০২ টি ট্রলি গাড়ি থামিয়ে অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা ট্রলি ড্রাইভার এবং যাত্রীদের নিকট থেকে ১,০২,৫০০/- (এক লক্ষ দুই হাজার পাঁচশত) টাকা এবং ০১ টি মোবাইল ফোন ডাকাতি পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং ০১(০৩)২৫ ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পিসি রুজু হয় এবং অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম নিজেই মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করেন। তদন্ত কালিন তিনি সর্বমোট ০৭ (সাত) জন ডাকাত গ্রেফতার করেন এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত লোহার রড, হাসুয়া, ধারালো রামদা এবং লুন্ডিত টাকার আংশিক উদ্ধার করেন। ধৃত ০২ জন ডাকাত বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
২। চাঞ্চল্যকর ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার ০২ জন আসামীকে হাতে নাতে গ্রেফতার সহ মোট ০৬ জন ডাকাত গ্রেফতার দেশী শুটার গান, রামদা ও ডাকাতির কাজে ব্যাবহৃত ০৩ টি মোটরসাইকেল উদ্ধারঃ আলমডাঙ্গা থানাধীন কুমারি ইউনিয়নের দূর্লভপুর গ্রামের শীর্ষ সন্ত্রসী পিয়াল মাহমুদ সাদ্দাম (৩২) এর মুরগির ফার্ম্ এর নিকটে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে সমবেত হইয়া প্রস্তুতি গ্রহন করার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করিয়া অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম এর সরাসরি নেতৃত্বে হাতে নাতে ০২ জন শীর্ষ সন্ত্রসী (ডাকাত) সহ পরবর্তীতে এজাহার নামীয় আরো ০৪ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করেন। ধৃত আসামী পিয়াল মাহমুদ সাদ্দাম এর নিকট থেকে একটি দেশীয় শুটার গান, রামদা সহ ঘটনাস্থল হইতে ০৩ টি মোটরসাইকেল জব্দ করেন। উক্ত ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং ১৭(৪)২৫ ধারা-৩৯৯/৪০২ পিসি রুজু হয়। অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম নিজেই মামলাটির তদন্তভার গ্রহন করেন। মামলাটি তদন্তকালিন তিনি আরো ০১ টি বিদেশী রিভলবার ধৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিয়াল মাহমুদ সাদ্দামকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে উদ্ধার করেন। উল্লেখ্য যে, একই ঘটনায় দেশীয় তৈরী শুটার গান উদ্ধার হওয়ায় আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং ১৫(৮)২৫ ধারা- 19A/19F The Arms Act 1878 রুজু হয়।
৩। ০৩ (তিন) টি দেশী+বিদেশী অস্ত্র (পিস্তল, রিভলবার, ওয়ান শুটারগান, ০২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি), পুলিশের পোষাক সহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র সস্ত্র সহ ০৬ জন সন্ত্রাসী/ডাকাত হাতে নাতে গ্রেফতারঃ আলমডাঙ্গা থানাধীন লক্ষীপুর গ্রামস্থ জনৈক আব্দুর রাজ্জাক (৫০) এর ডিজেল তেলের দোকানের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর হইতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করিয়া অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম এর সরাসরি নেতৃত্বে অফিসার ফোর্স সহ ০১ টি দেশী পিস্তল, ০১ টি বিদেশী রিভলবার, ০১ টি দেশীয় তৈরী শুটার গান, ০২ রাউন্ড পিস্তলে গুলি, পুলিশের পোষাক, পুলিশে ওয়াকিটকি সদৃস্য বড় সাইজের মোবাইল ফোন, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ০১ টি মাইক্রো বাস এবং একই সাথে আসামীদের নিকট থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন। একই ঘটনায় অস্ত্র গোলাবারুদ, মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়ায় এবং আসামীরা ডাকাতি প্রস্তুতি গ্রহন করায় ০৩ টি আলাদা আলাদা মামলা রুজু হয়।
৪। চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস দস্যুতা মামলার ০৩ জন আসামী গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত ইজিবাইক উদ্ধার ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি রেকর্ডঃ আলমডাঙ্গা থানাধীন মাজহাদ ফাকা মাঠের মধ্যে পাঁকা রাস্তার উপর ইং ২৪/০৪/২০২৫ তারিখে দস্যুতা করে রাত অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার দিকে অজ্ঞাতনামা অপরাধীরা মামলার বাদিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দস্যুতা সংঘটনের মাধ্যমে ইজিবাইক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম এর সরাসরি তত্তাবধানে লুণ্ঠিত ইজিবাইক উদ্ধার হয় এবং ধৃত ০১ জন আসামী বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে। যাহার প্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং ৪২(৪)২৫ ধারা-৩৯২ পিসি রুজু হয়।
৫। চাঞ্চল্যকর ০২ টি ডাকাতি প্রস্তুতি মামলায় (৬+৫)=১১ জন ডাকাত গ্রেফতার ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল উদ্ধারঃ আলমডাঙ্গা থানাধীন চুয়াডাঙ্গা টু মেহেরপুর হাইওয়ে রোডের কুলপালা ভাদারিয়া নামক স্থানে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে ০৫ জন ডাকাত হাতে নাতে আটক হয় এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আলমডাঙ্গা থানাধীন আলমডাঙ্গা টু কুষ্টিয়া রোডের রোয়াকুলি গ্রামের বদরগঞ্জ ফাকা মাঠে রাস্তা উপর গাছ ফেলে ডাকাতি প্রস্তুতি গ্রহনের সময় ০৬ জন ডাকাতকে হাতে নাতে আটক করেন। চাপাতি, পাখি ভ্যান এবং হাসুয়া সহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জানাদি উদ্ধার করেন। যাহার প্রেক্ষিতে আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং ০৭(৬)২৫ ধারা-৩৯৯/৪০২ এবং ০৮(৫)২৫ ধারা-৩৯৯/৪০২/১৭০/১৭১ পিসি রুজু হয়।
৬। দেশীয় তৈরী ওয়ান শুটার গান ও চাইনিজ কুড়াল সহ ০১ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেফতারঃ আলমডাঙ্গা থানাধীন হারগাড়ী টু কুমারি পাঁকা রাস্তার উপর হইতে অত্যাধুনিক শুটার গান ও চাইনিজ কুড়াল সহ হাতে নাতে আটক/উদ্ধার করেন। আলমডাঙ্গা থানার মামলা নং ৩৯(৪)২৫ ধারা- 19A/19F The Arms Act 1878 রুজু হয়।
৭। অপহরন মামলার ভিকটিম উদ্ধার ০২ জন আসামী গ্রেফতার ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডঃ সাতক্ষীরা সদর থানাধীন কাশেমপুর গ্রামস্থ আসামী/অপহরনকারীর বাড়ি হইতে ০১ জন অপহৃত ভিকটিমকে অপহরনের ০৮ দিন পর, মামলা রেকর্ড এর ২৪ ঘন্টার মধ্যে অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম এর সরাসরি নেতৃত্বে উদ্ধার করেন। অপহৃত ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে ঘটনার বর্ননা দিয়ে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। সাতক্ষীরা থানার মামলা নং ৩৩(১)২৬ ধারা-৩৬৪/৩৪২/৩৮৭ পেনাল কোড।
০৮। নিয়মিত মামলা, জিআর+সিআর+সাজা পরোয়ানা সহ সর্বমোট ৩৭২ জন আসামী গ্রেফতারঃ অফিসার ইনচার্জ মুঃ মাসুদুর রহমান পিপিএম ০৮/১২/২০২৫ তারিখে সাতক্ষীরা থানা, সাতক্ষীরা যোগদান করে ২৮/০২/২০২৬ তারিখ পর্যন্ত নিয়মিত মামলা জিআর+সিআর+সাজা পরোয়ানা এবং বিবিধ অপরাধের সহিত জড়িত ৩৭২ জন আসামীকে গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে অত্র থানা এলাকায় বিকাশ প্রতারণা, ভিকটিম উদ্ধার ও বিভিন্ন মামলায় তদন্তকারী অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা প্রদান করা সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধকল্পে সর্বদা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
তার কর্মতৎপরতায় অফিসার ও ফোর্সের মনোবল বৃদ্ধি সহ সার্বিক পুলিশি কার্যক্রম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তার উক্তরূপ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ভবিষ্যৎ কর্ম উদ্দীপনা ও মনোবল আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাকে ২০২৬ সালে Police force Exemplary Good Service Badge-(আইজিপি ব্যাজ) ভূষিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ প্রধান মোঃ আলী হোসেন ফকির এ বছর পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠানে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন গ্রাউন্ডে তাকে এর সম্মানজনক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
