
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। শুধু তাই নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিসিদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন।
আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার-যোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৬ মে) বিকেলে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় ডিসি সম্মেলন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এরপর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা নৈশভোজে অংশ নেন। শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের নয়টি কার্য অধিবেশন ছিল।
বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।’ তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
