
সাতক্ষীরায় এক মাছ ব্যবসায়ীকে কৌশলে ঘরে আটকে নগ্ন ভিডিও ধারণ, মারধর এবং পর্নোগ্রাফি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা ও মোটরসাইকেল হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ বকচরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ মোজাহারুল ইসলাম নয়ন (২৬) ও তার স্ত্রী ফিরোজা খাতুন ইভা (৪০)। তারা বকচরা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী ও বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লাহর (৩৬) সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিচয়ের সূত্রে নয়নের পূর্বপরিচয় ছিল। গত শনিবার ৩ জানুয়ারি বিকেলে একটি মৎস্য ঘের ইজারা দেওয়ার কথা বলে নয়ন তাকে বাসায় ডেকে নেন।
সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এক নারীকে দিয়ে কক্ষে নাস্তা পাঠানো হয় এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে ওবায়দুল্লাহকে বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামিরা। প্রাণভয়ে বাদী তাৎক্ষণিক নগদ ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৬ হাজার টাকা প্রদান করেন। এরপরও তাকে মারধর করে ১ লক্ষ টাকা দেনা আছেন মর্মে জোরপূর্বক ভিডিও জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং তার ব্যবহৃত ১ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা মূল্যের হোন্ডা লিভো মোটরসাইকেলসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বুধবার ১৪ জানুয়ারি মোটরসাইকেল ফেরতের কথা বলে আরও ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। উপায়ান্তর না দেখে ওবায়দুল্লাহ গত ১৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা সদর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৭/৯৮)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তুফান দুলাল মন্ডল জানান, প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের মূল হোতা দেবহাটা থানার দক্ষিণ কুলিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম রবি। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিশেষ নোট মামলা নং: ২৭/৯৮
(১৫/০৩/২০২৬ )ধারা: ৮(১)/৮(২)/৮(৭) পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) তুফান দুলাল মন্ডল।
