সাতক্ষীরায় চলছে কঠোর লকডাউন : পুলিশের তৎপরতায় কমছে সংক্রমণ


 

সাতক্ষীরা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণের হার কমে ৩৬ দশমিক ১৭ শতাংশে এসেছে। এ হার গত এক সপ্তাহে সবচেয়ে কম। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এ হার ছিল ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ।

চলতি সপ্তাহের ৮ জুন জেলার সর্বোচ্চ হার ছিল ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এদিকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে আজ শনিবার থেকে সাতক্ষীরা জেলায় দ্বিতীয় দফায় আরও এক সপ্তাহ লকডাউন শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় ৫ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত জেলায় লকডাউন ছিল।

এদিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলায় গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৮ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর শতকরা হার ৩৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর শতকরা হার ৫২ দশমিক ৬০ শতাংশ। ৫ থেকে ১১ জুনের মধ্যে এক সপ্তাহে জেলায় সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমণের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন হুসাইন সাফায়াত বলেন, দ্বিতীয় দফায় লকডাউনের প্রথম দিনে সংক্রমণের হার এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার কমলেও রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গতকাল রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৪৭ জন। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮৩ জনে। ১০০ শয্যার সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার জন্য কাজ চলছে।

এদিকে জেলার সুশীল সমাজ বলছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ঘোষণা কৃত লক ডাউন কঠোর ভাবে বাস্তবায়ন করেছে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের পিপিএম-বার এঁর নেতৃত্বে জেলার ৮ টি থানার অফিসার ইনচার্জ গণ তাদের নিজ নিজ এলাকায় প্রবেশের মুখে রাস্তায় বাঁশ বেধে রেখেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা শহরের মোড়ে মোড়ে বাঁশ বেধে দিয়েছে সাতক্ষীরা থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন ও ট্রাফিক পুলিশের টিআই কামরুজ্জামান বকুল । যে কারনে এক মোড় থেকে অন্য মোড়ে মটর সাইকেল/বাই সাইকেল নিয়ে কেউ যেতে পারছেনা।আর কেউ হেটে গেলেও তাকে পড়তে হচ্ছে পুলিশের জেরার মুখে।এছাড়া জেলা ডিবি পুলিশের ওসি ইয়াছিন আলম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ডিবির টিম মাইক্রবাস যোগে টহল অব্যহত রেখেছে।

আবার পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গণ নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে যাচ্ছেন। যার কারনে জরুরী সেবা (ঔষধের দোকান-কাঁচা বাজার-নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দোকান) ছাড়া বাকি সকল মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।তাছাড়া সীমন্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে বিধায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণের হার কমে ৩৬ দশমিক ১৭ শতাংশে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page